শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ নবীন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীসহ চারজনকে আজীবন বহিষ্কার এবং ১৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০৭তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, গত ১৫ ফেব্র“য়ারি বৃহস্পতিবার সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৬ নবীন শিক্ষার্থীকে অর্ধনগ্ন করে র্যাগিংয়ের পাশাপাশি রাতভর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
র্যাগিংয়ের ঘটনায় ২১ জনের মধ্যে সিইই বিভাগের শিক্ষার্থীর আশিক আহমেদ হিমেল ও হামিদুর রহমান রঙ্গনকে আজীবন, একই বিভাগের মাহমুদুল হাসান ও শাহরিয়ার জামানকে দুই সেশনের জন্য বহিষ্কার ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, একই বিভাগের ইশতিয়াক আহমেদকে এক সেশনের জন্য বহিষ্কার ও দশ হাজার টাকা জরিমানা, একই বিভাগের বাবলু মারমা, আদ্রী দাস, আবু রেদওয়ান খান, উমর আলম সরকার এবং পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের রনি সরকারকে ছয় হাজার টাকা জরিমানা ও সতর্কীকরণ, সিইই বিভাগের আহমেদ হাসিব, দেবাষীস বসু, মাহবুবে ইব্রাহীম, মো. শহীদুল আলম, মো. আল আমিন, দীপ্ত তরু, আশিকুল এনাম, রাইসুল বারী সিফাত, সজিবুর রহমানকে তিন হাজার টাকা জরিমানা এবং সতর্কীকরণ, একই বিভাগের নাজমুস সাকিব ফারদিন এবং শরিফুল ইসলামকে শুধু সর্তক করা হয়। এদিকে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অবরোধ করে এই প্রতিবেদন লেখা পযর্ন্ত গোলচত্বর অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সিইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তারা সিন্ডিকেটের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় দাবি জানান।সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না। র্যাগিংয়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এ ছাড়া একই সিন্ডিকেট সভায় ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ডটি টেকনোলজি বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী আল আমিনকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। অন্যদিকে একই বছর সহপাঠীকে ছুরিকাঘাত ও হত্যার চেষ্টার ঘটনায় কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ রাসেল পারভেজকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।