ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)র অঙ্গ প্রতিষ্ঠান গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজী (আইইউটি)র ভিসি’র অপসারণের দাবিতে কালো ব্যাজ পড়ে দ্বিতীয় দিন বুধবারেও ক্লাশ বর্জন ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মুনাজ আহমেদ নুর যাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে এজন্য তারা প্রধান ফটক তালা বন্ধ করে রেখেছে। এর আগে মঙ্গলবার আন্দোলনরতদের বাধার মুখে কাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রায় ৫ ঘন্টা গেইটের বাইরে অপেক্ষার পর ঢাকায় ফিরে যেতে বাধ্য হন।

জয়দেবপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ও অন্দোলনরতরা জানান, গাজীপুরের বোর্ডবাজারস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজী (আইইউটি)র ভিসি পদে প্রফেসর ড. মুনাজ আহমেদ নুর এর অপসারণের দাবীতে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন বুধবারেও সকাল হতে আন্দোলনরত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ পড়ে এবং বিভিন্ন প্যাকার্ড ও ব্যানার হতে নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে দিনভর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে। আন্দোলনরতরা এ দিনেও ক্লাশ বর্জন করেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মুনাজ আহমেদ নুর যাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে এজন্য প্রধান ফটক তালা বন্ধ করে রেখেছে। তারা বহিরাগত কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেয়নি। তবে এদিন ভিসি প্রফেসর ড. মুনাজ আহমেদ আইইউটি’র গেইটে আসেন নি। তিনি অন্যত্র বসে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আইইউটির ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মনির হোসেন ও মোঃ তসলিম রেজাসহ আন্দোলনরতরা জানান, আইইউটি’র ভিসি পদে প্রফেসর ড. মুনাজ আহমেদ নুর ২০১৬ সালে যোগদানের পর হতে নানা অনিয়ম কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। আইইউটিতে ফ্যাকাল্টি এবং স্টাফ মেম্বারদের প্রতি তার অপেশাদারী আচরণ, কোনও সঠিক কারণ দর্শানো ছাড়াই কর্মচারীদের চুক্তির মেয়াদ মাত্র এক বছরের জন্য বৃদ্ধি করা, পবিত্র রমজান মাসে মসজিদে ছাত্রীদের জন্য তারাবীহ নামাজের অনুষ্ঠান বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণ, কোনো ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া শিক্ষকদের পদোন্নতি ও কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি অনুমোদন না করা, আইইউটি’র সম্পদের অপব্যবহার করা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলের অপব্যবহার করে একটি বৈষম্যমূলক কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করা, ওআইসি এবং ওআইসি’র জারি করা আদেশগুলোর প্রতি সরাসরি ভৎর্সনা করা, একজন ছাত্রীকে হয়রানি এবং তার দুর্দশা বাড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখানো, ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রীদের আবাসন সুবিধা প্রদানে যথাযথ নিয়ম কানুন না মানা, কোন সুবিধা না বাড়িয়ে দ্বিগুণ সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করাসহ নানা অনিয়মের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মাঝে বেশ কিছুদিন ধরে অসন্তোষ চলে আসছে। এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা ভিসি’র অপসারণের দাবিসহ ১৩দফা দাবিতে মঙ্গলবার হতে আন্দোলন শুরু করে। ১৩ দফা দাবিতে তাদের আন্দোলন শুরু হলেও বর্তমানে এক দফা আন্দোলন ভিসি হটাও চলছে। ভিসি মুনাজ আহমেদের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে কালে আন্দোলনরতরা প্রধান ফটক তালা বন্ধ করে তাকে বাঁধা দেয়। আন্দোলনরতদের বাধার মুখে তিনি কাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে প্রায় ৫ ঘন্টা গেইটের বাইরে অপেক্ষার পর ঢাকায় ফিরে যেতে বাধ্য হন।

এ ব্যপারে আইইউটি’র ভিসি প্রফেসর ড. মুনাজ আহমেদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বহির্বিশ্বের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করতেই কিছু সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী-শিক্ষার্থীরা বিশেষ মহলের মদদে আমার বিরুদ্ধে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে তাদের আনা কোন অভিযোগ সঠিক নয় এবং সবগুলোই ভিত্তিহীন। যে ইস্যু নিয়ে তারা আন্দোলন করছেন তার কোন ভিত্তি নেই। এছাড়া আন্দোলনকারীরা তাদের যৌক্তিক কোন দাবি নিয়ে আমার কাছে কখনও আসেননি। উপরন্তু তারা ওআইসি’র ড. ইউসেফ বিন আহমাদ আল- ওথাইমিন’র কাছে নানা অভিযোগ উল্লেখ করে আমাকে অপসারনের আবেদন করেন। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোহাম্মাদু ওমারু’র নেতৃত্বে ওআইসি’র ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’র তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আইউটি’তে এসে গত ১৭ হতে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তদন্ত করে গেছেন। তাদের তদন্ত রিপোর্ট এখনো প্রকাশ হয়নি। ওই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ার আগেই তারা আমাকে অপসারণের আন্দোলনে লিপ্ত হয়েছে। এটা উদ্দেশ্যমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তদন্ত দলকে প্রভাবন্বিত করতে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।