দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বিরামপুর পৌর শহরে মেহেদুল ইসলামের পেট্রলের আগুনে ঝলসে গেছে তার শাশুড়ি বুলি বেগম (৫৫)।তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে বিরামপুর শহরের পূর্বপাড়া মহল্লা এ ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে বিরামপুর শহরের পূর্বপাড়া মহল্লার আফজাল হোসেন ও বুলি বেগম দম্পতির মেয়ে শিল্পী বেগমের সঙ্গে উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের আজিবর রহমানের ছেলে মেহেদুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তিনটি সন্তান রয়েছে।
জামাই মেহেদুল শ্যালকের অটোরিকশা ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। সম্প্রতি সেই অটোরিকশা ভেঙে যাওয়ায় শ্বশুর বাড়িতে দিয়ে যান তিনি। পরে অটোরিকশা মেরামত করে অন্যের কাছে ভাড়া দিলে মেহেদুল শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।এর জেরে বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেহেদুল শ্বশুরবাড়ি গিয়ে শাশুড়িকে মোবাইলে বাড়ির বাইরে পাকা রাস্তার উপর ডেকে নেন। এরপর বুলী বেগমের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান। এতে বুলী বেগমের সর্বাঙ্গ আগুনে ঝলসে যায়।
এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বুলী বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করেন।পরে স্বজনরা দগ্ধ বুলী বেগমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আঙ্গুরা বেগম জানান, আগুনে বুলী বেগমের মাথা ও মুখমণ্ডল ব্যতীত সর্ব শরীর ঝলসে গেছে। তিনি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অগ্নিদগ্ধ বুলী বেগম রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।