গাজীপুরে বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবীতে মঙ্গলবারেও শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছে। এসময় তারা দু’টি বাসে অগ্নিসংযোগ ও বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করেছে। পুলিশ বাঁধা দিলে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে নারীসহ কয়েকজন জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ন্যূনতম মজুরী ২৩ হাজার টাকা করার দাবীতে মঙ্গলবারেও সকাল হতে মহানগরীর কাশিমপুর, হাতিমারা, জিতার মোড়, জরুন ও কোনাবাড়ি এলাকার বিভিন্ন মিল কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে। তারা কারখানা থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে এলে তাদের সঙ্গে আশেপাশের আরো কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা যোগ দেয়। তারা বিক্ষোভ মিছিল সহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ ও আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ করে। একপর্যায়ে তারা কোনাবাড়ি এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপর অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় পুলিশ মহাসড়কের উপর থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আজমেরী পরিবহণের দু’টি বাসে অগ্নিসংযোগ করে এবং বেশ কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভাংচুর করে। এতে ওই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় পুলিশ টিয়ার সেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এঘটনায় নারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, বেতন ভাতা বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকরা দু’টি বাসে আগুন দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।
জিএমপি’র কোনাবাড়ি জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবারেও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ করেছে। শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আশেপাশের বেশ কয়েকটি কারখানা এদিনও দুপুরের পর হতে ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ টিয়ার সেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশসহ বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।