ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের উত্তেজিত নেতাকর্মীরা রুহিয়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হয়েছে।

শনিবার বিকেলে রুহিয়া থানা বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ও থানা মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটে।

শনিবার দুপুরে বিএনপির পূর্বঘোষিত সমাবেশ উপলক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীরা সমাবেশ স্থলে আসতে থাকে। অপরদিকে একই দিন সমাবেশ ঘোষণা করে মহিলা আওয়ামী লীগ। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনসারুল ইসলামের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এতে তার মাথা ফেঁটে গুরুতর আহত হন। তাকে বিএনপি নেতাকর্মীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনার পর উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা ধাওয়া পালটা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করাসহ দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে সভাস্থলে আসার সময় আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের বাধা দেয় ও মারপিট করে। আমাদের সভামঞ্চে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে, অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং অফিসেও অগ্নি সংযোগ করেছে। আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে আহত করেছে।

পাল্টা অভিযোগ করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে থানা মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। দুপুরে হঠাৎ করেই বিএনপির নেতাকর্মীরা এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের বাসায় হামলা চালায়। আমাদের ছেলেরা এগিয়ে এলে তারা আমাদের ছেলেদের মারপিট করে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, বিএনপি ও মহিলা আওয়ামী লীগ একই সময় সভা আহবান করে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুপুরে মহিলা লীগ ও বিকেলে বিএনপিকে সভা করার কথা বলা হয়েছিল। তবে একই সময়ে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষ এই অপ্রিতিকর ঘটনায় জড়িয়ে পরে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।