১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রে কর্মরত প্রায় দুই হাজার বাঙালি শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশ করছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাংলা ক্যান্টিনে হামলা চালায়। ভাংচুর করে গেট, প্লাস্টিকের চেয়ার। পানি, বিদ্যুত সুবিধা ঠিকমতো না থাকা। শুক্রবারে হলিডে না থাকা। বেতনভাতা বৃদ্ধি না করা ও যথাময়ে প্রদান না করা। নির্দিষ্ট পোশাক বাবদ বেতন থেকে টাকা কেটে নেয়াসহ বিভিন্ন বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার দাবি করে শ্রমিকরা আগেই ক্ষুব্ধ হয়ে আসছিল। এরই মধ্যে দুইদিন পর্যন্ত বাঙালী শ্রমিকদের শেড এলাকায় পানির সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। তাদের খাবার ও ব্যবহারের নিরাপদ পানির সঙ্কট দেখা দেয়।
রোববার বেলা ১১টায় কাজ শেষে লাঞ্চের ছুটিতে গিয়ে পানি না পেয়ে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে এক চায়নিজ শ্রমিক বাঙালি শ্রমিককে ধাক্কা দেয়। এখবর শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা প্ল্যান্ট অভ্যন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে হামলা-ভাংচুর চালায়। কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন একদল পুলিশসহ সেখানকার ক্যাম্পের পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সন্ধ্যা ছয়টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিসিপিসিএলএর প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহমনি জিকো শ্রমিকদের এসব দাবি মেনে নেয়ার আশ^াস দিলে পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়। তবে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাসহ জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আরেক দফা বৈঠক রাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যাবে। বিদ্যুত প্লান্ট এলাকায় পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আলম তালুকদার পিপিএম জানান, বর্তমানে গোটা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শ্রমিকরা জানায়, নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছে। দীর্ঘদিনেও এর কোন প্রতিকার তারা পায়নি। একাধিক সুত্রে আরও জানা গেছে, পায়রা তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রে প্রায় ত্রিশটি সংস্থা শ্রমিক সরবরাহ করে আসছে। এদের অধিকাংশের জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের কোন অনুমোদন নেই। শুধুমাত্র দ্বোভাষীর মাধ্যমে মধ্যস্বত্তভোগী একটি চক্র শ্রমিকদের প্রকৃত বেতন না দিয়ে মাসোহারা আদায় করে নেয়। তাঁদেরকে সুবিধাবঞ্চিত রাখা হয়। এনিয়েও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করে আসছিল। রবিবারের এ ঘটনায় এলাকার বাইরে নানান ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আরও জানা গেছে, অবৈধভাবে জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া শ্রমিক সরবরাহের বাণিজ্য এখন এক ধরনের প্রতারণায় পরিনত হয়েছে। একটি চক্র ধানখালীর গোটা এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো শুধু সাইনবোর্ড খুলে এ ব্যবসায় নেমে। এসব শ্রমিকদের পুর্ণাঙ্গ ঠিকানা পর্যন্ত জানে না প্রশাসনের কোন স্তর। যার কারণে সন্ত্রাসীসহ রোহিঙ্গা, বহিরাগত ওয়ান্টেডরাও সরকারের মেগা প্রজেক্ট ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা বিদ্যুত প্লান্টের নির্মাণ কাজের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তবে রবিবারের ঘটনার পর থেকে টনক নড়ে সংশ্লিষ্টদের। শ্রমিকরা নিশ্চিত করে জানান, তাদের সন্ধ্যা থেকে ভ্যানযোগে নিরাপদ পানি সরবরাহ শুরু করেছে। আশ^াস দেয়া হয়েছে তাদের সকল সমস্যার সমাধানের।