রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার আরেক পরিকল্পনাকারী ছিলেন মারজান

গুলশান হলি আর্টিজান বেকারীতে জঙ্গি হামলার বহুল আলোচিত মাষ্টারমাইন্ড মারজানের গ্রামের বাড়ী পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের আফুরিয়া গ্রামে। তাঁর পুরো নাম নুরুল ইসলাম মারজান। সোমবার সন্ধ্যায় পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমিও শুনেছি মারজানের বাড়ী পাবনায়। অনুসন্ধানে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে অফিসিয়ালী আমি কোন নির্দেশ পাইনি। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ছাত্র। এ বছরের জানুয়ারিতে বাড়ি গিয়ে বিয়ে করে বাড়িছাড়া হন। সেই থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই বলে বাবা-মায়ের দাবি।মারজানের সম্পর্কে তথ্য চেয়ে পুলিশ তাঁর ছবি প্রকাশ করেছিল। এরপর সোমবার তাঁর সম্পর্কে তথ্য মিলল।

মারজানের বাবা-মা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, আর্থিক অনটনে বেড়ে উঠেছেন মারজান। গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে তিনি পাবনা শহরের পুরাতন বাঁশবাজার আহলে হাদিস কওমী মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি পাবনা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে দাখিল ও আলিম পাস করেন। এরপর ২০১৪ সালে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে। এ বছরের জানুয়ারিতে শেষবারের মতো বাড়ি গিয়েছিলেন। তখন খালাতো বোন প্রিয়তিকে বিয়ে করেন। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছাড়েন। এই আট মাসে পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি তিনি।মারজানের বাবা নিজাম উদ্দিনের দাবি, পত্রিকায় ছবি প্রকাশের পর তিনি ছেলের বর্তমান অবস্থার কথা জানতে পারেন। এর আগ পর্যন্ত তিনিসহ পরিবারের লোকজন কেউ কিছু জানতেন না। তিনি বলেন, ছেলে অপরাধ করলে যা শাস্তি হয় হবে। এতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। তবে মারজানকে যারা জঙ্গি বানিয়েছে তিনি তাদেরও শাস্তি চাইলেন। মারজানের মা সালমা খাতুন বলেন, আমার বেটা কুনু খারাপ কাজ করতে পারে, তা আমার ভাবনাতিও আসে নাই। কুনুদিন সে কোনো অন্যায় কাম করে নাই। কেন যে বেটা এই পথে গেল, সিডাই আমার প্রশ্ন।

আফুরিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানাযায়, মারজানের বাবার নাম নাজিম উদ্দিন ওরফে বাটুল ও মায়ের নাম সালমা খাতুন এবং দাদার নাম আব্দুর রহমান। কিছুদিন আগে মারজান পাবনায় এসেছিলেন এবং বিয়ে করে আবার ঢাকায় চলে যান। গ্রামবাসীরা জানায়, খালাতো বোনকে বিয়ে করেছেন কথিত মারজান। গ্রামের মানুষজন জানায়, বাটুল গ্রামবাসীদের কাছে বলতেন, তার ছেলে পিস টিভিতে চাকুরী করে। জানাযায়, বাটুল এক সময়ে হোঁিসয়ারীর (গেঞ্জি) ব্যবসা করতেন। গ্রামের মানুষের মতে, তাদের গোটা পরিবার জামায়াত সমর্থক। কথিত মারজানরা ৫ ভাই, ৫ বোন। মারজান তার বাবার ২য় পুত্র। জানাযায়, মারজান আলিমপাশ করার পর পাবনা থেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকায় চলে যান। গ্রামের কেউ কেউ বলছেন, মারজান চট্রগ্রামে পড়াশোনা করতো। রাতে সদর থানার ওসি-তদন্ত মুন্সি আব্দুল কুদ্দুস জানান, আমরা শুনতে পেরেছি তার বাড়ী পাবনায়। তবে বিস্তারিত কোন কিছু জানি না।