10প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় খালেদা জিয়াকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যদি ৩০০ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা) প্রমাণ দিতে পারেন তাহলে সব টাকা এতিমদের দিয়ে দেব।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মন্তব্যের জবাবে রবিবার সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক পেজে এ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
এর আগে শনিবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের (সজীব ওয়াজেদ জয়) একটি অ্যাকাউন্টেই আড়াই হাজার কোটি টাকা জমা আছে। এই টাকা কোথা থেকে গেছে? এই টাকার উৎস কী? বাংলাদেশের মানুষ তা জানতে চায়।’
জয়ের ফেসবুক পেজের উদ্ধৃতি দিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন ফেসবুকে জানান, ‘যেহেতু ম্যাডাম জিয়া নিজেই বলেছেন তার কাছে সব প্রমাণ আছে । কিন্তু সজীব ওয়াজেদ জয়ের চ্যালেঞ্জের পর ম্যাডাম জিয়া মুখে কুলুপ এঁটেছেন । ম্যাডাম জিয়া মুখে কুলুপ আটার অবশ্য অন্য কারণও আছে । আসলে তিনি এতিমদের কথা শোনার পরই চুপ হয়ে গেছেন। কারণ উনি এবং উনার ছেলে এতিমদের টাকা মেরে খেয়েছেন । জয়ের ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ করতে খালেদা জিয়া জয়ের বিরুদ্ধে এ সব কথা বলছেন।  ৩০০ মিলিয়ন ডলার তো দূরের কথা, তিন হাজার ডলার যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে রাখতে গেলে আয়ের বৈধ উৎস দেখাতে হয় ।’
তিনি আরো বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসাবে কোন সরকারি সুযোগ–সুবিধা নেন না । তার নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈতনিক । জয়ের ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিরোধীপক্ষ খুবই নোংরা পথ বেছে নিয়েছে । যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ের একজন কর্মকর্তাকে হাত করে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা করার জন্য তারা স্থান হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রকেই বেছে নেয় । কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয়নি । এই ষড়যন্ত্র মামলায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা এবং ওই এফবিআই কর্মকর্তা রবার্ট লাসটিকসহ তিনজন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে রয়েছেন । যে মামলার তদন্ত যুক্তরাষ্ট্রই করেছে । আর এই পুরো ষড়যন্ত্র প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শফিক রেহমান । গ্রেফতার হবার পর তিনি নিজেও তা স্বীকার করেছেন এবং তার বাসা থেকে কাগজপত্রও উদ্ধার করা হয়েছে । তার স্ত্রী তালেয়া রেহমান প্রেস কনফারেন্সে নিজেও বলেছেন, এই কাজে শফিক রেহমান যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন এবং ওই এফবিআই কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বিদেশিদের কাছ থেকে টাকা এনে সেই টাকা নিজেরা আত্মসাৎ করেছেন । মামলায় হাজিরা নিয়েও গড়িমসি করছেন । তাকে নাকি হয়রানি করা হচ্ছে এইসব ইস্যু বানাচ্ছেন । অথচ ওনারা যে ব্যাংক থেকে চেকের মাধ্যমে এতিমদের হকের ওই টাকা নিজেরা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন এর সকল প্রমাণও আছে । তাই এখন তিনি সজীব ওয়াজেদ জয় এর চ্যালেঞ্জ নিয়ে আর কোন কথা বলছেন না ।