এরশাদ

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬: ভাই জিএম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান করা এবং রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল মন্তব্য করে আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেছেন, একটি ঘোষণা মানুষের মনে আশা সঞ্চার করেছে। দেরিতে হলেও জাতীয় পার্টির জীবনে নতুন আশার আলো দেখতে পারছি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েলস কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত দলটির নব নিযুক্ত কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।জাপা মহানগর উত্তর এ সংবর্ধনার আয়োজন করে। মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম ফয়সাল চিশতি এতে সভাপত্বি করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতেই এইচএম এরশাদ উল্লেখ করেন, তোমাদের একটা কথা বলি, একটু আগে রওশন ফোন করেছিলেন। আমাকে বললেন– তুমি কোথায়? আমি বললাম আমার ভাইয়ের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে আছি। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমাকে নিলে না কেন? আমি বললাম এখানে তো আমারো আসার কথা ছিল না, অনেকটা হঠাৎ করেই এসে পড়েছি।

এরপর দলের কর্মী-সংগঠকদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, আজ এখানে আমার আসার কথা ছিল না, তবু আমি এসেছি। আমি শুধু এসেছি তোমাদের জন্য। তোমাদের দেখে ভালো লাগল, দুঃখ বেদনা হতাশা দূর হয়ে গেল।তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের বক্তব্য আমি শুনলাম। তার কথার মধ্যে আমি আশার আলো দেখতি পাচ্ছি।এসময় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে এরশাদ বলেন, আপনারা জি এম কাদের ও রহুল আমিন হাওলাদার পাশে থাকবেন। এ দুজন মিলে পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করছি।

জিএম কাদেরকে জাতীয় পাটির কো-চেয়ারম্যান এবং রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গ্রহন সঠিক ছিল উল্লেখ করে এইচএম এরশাদ বলেন, আমার গোটা রাজনীতির জীবনে আমি যদি কোনো ভালো কাজ করে থাকি, তাহলে তা হচ্ছে এ ঘোষণা। এতদিন আমি একটা চাপা কষ্ট নিয়ে ঘুরতাম। মনে শান্তি ছিল না, হাসি ছিল না। প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তা হত, আমি না থাকলে জাতীয় পার্টি…আমার সন্তানের কী হবে? কিন্তু এখন আমি নিশ্চিন্ত, আমার সন্তান বেঁচে থাকবে। এ একটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে আমি বেঁচে থাকলাম। আমরা সন্তান জাতীয় পার্টি এবং তোমরা বেঁচে থাকলে।
জাতীয় পার্টির পুর্নবহাল মহাসচিব এবিএম রহুল আমিন হাওলাদারের প্রশংসা করে এরশাদ বলেন, রুহুল আমিন ১৪ বছর দলের মহাসচিব ছিল। কিন্তু আমি তাকে সরিয়ে দেয়ার পর কোনো দিন আমার বিরুদ্ধে একটি কথা বলেনি। এই হচ্ছে আনুগত্য, এই হচ্ছে ভালোবাসা, এই হচ্ছে প্রেম। আর একজনকে মহাসচিব করেছিলামৃআমার ভাইকে পদ দেয়ার কারণে তিনি আমাকে আমার পার্টি থেকে বহিষ্কার করে দিলেন। এটা কোনো কথা হতে পারে? এসময় কর্মীরা সমস্বরে বলে উঠেন, না..না..নাৃবাবলু বেঈমান..বেঈমান। এরপর তাদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, আজ থেকে সব দুঃখ ভুলে গেলাম। আমরা এগিয়ে চলব। তোমরা প্রস্তুত?

ভাই জিএম কাদের সম্পর্কে এরশাদ বলেন, এতদিন তোমরা আমার কথা শুনেছ, এখন থেকে আমার ভাইয়ের কথা শুনবে। তার কথা মেনে চলবে। আমার ভাই স্পষ্ট কথা বলে। সবার মধ্যে দেখি, তোষামোদের প্রবণতা। এটা আমি পছন্দ করি না। তোমরা যে বল, আমি অমুক..তমুক– আমার দুঃখ লাগে। আমি ভালো কী মন্দ তা জনগণ বিচার করবে। আমাকে শুধু বলবে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, আর কিছু নয়।জাতীয় পার্টির সামনে সোনালী ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে দলের নেতাকর্মী উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় মানুষের পাশে ছিলাম। মুখে খাবার তুলে দিয়েছি, বিপদে আপদে সহায় হয়ে দাঁড়িয়েছি…কোনোদিন কারো ক্ষতি করিনি। আমার হাতে কারো রক্তের দাগ নেই। মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এত বছর আমার শুধু একটাই চিন্তা ছিল– আবার কি এই শোষিত-বঞ্চিত-অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাব? আবার কি তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারব? কিন্তু এখন আর চিন্তা নেই। আমি আশার আলো দেখছি। জাতীয় পার্টিতে নবজাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা কোনো ক্ষয়িষ্ণু দল নই। আমর জয়ী হব..জয়ী হব..জয়ী হব। তোমরা শুধু আমার ভাইয়ের পাশে থাকবে, মহাসচিবের পাশে থাকবে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির নবনিযুক্ত কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হওলাদার, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম ফয়সল চিশতি।