ইজতেমায় ঘরমুখি মুসল্লিদের জন্য পুলিশের বিনা ভাড়ায় শাটল বাস

Istema Pic-03

দৈনিকবার্তা-গাজীপুর, ১০ জানুয়ারি ২০১৬: আজ বিশ^ ইজতেমার আখেরী মোনাজাত শেষে মুসল্লিদের নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরতে গাজীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আখেরী মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা বিনা ভাড়ায় চান্দনা চৌরাস্তা এবং মিরের বাজার পর্যন্ত এ সাটল বাসে যাতায়ত করতে পারবে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ পিপিএম রবিবার সকালে ইজতেমা ময়দানে সাংবাদিকদের জানান, গাজীপুর ও আশপাশের এলাকার যে সকল মুসল্লি আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমা ময়দানে এসেছেন তারা যেন নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরতে পারেন সে জন্য মোনাজাত শেষে ইজতেমা ময়দান থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত এবং মিরের বাজার পর্যন্ত বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি জানান, আখেরী মোনাজাতের পর পরই এ দুটি রোডে বিশেষ শাটল বাসগুলো যাত্রী পরিবহন শুরু করবে। যতক্ষণ পর্যন্ত মুসল্লিরা ময়দানে থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত বিআরটিসির সাটল বাসগুলো মুসল্লিদের পরিবহন করবে। এজন্য মুসল্লিদের কোন প্রকার ভাড়া প্রদান করতে হবে না।

ইজতেমায় বিদেশীসহ আরো তিন মুসল্লির মৃত্যু : বিশ^ ইজতেমায় আগত এক বিদেশীসহ আরো তিন মুসল্লি ইন্তেকাল করেছেন। এর মধ্যে বার্ধক্য জনিত কারণে রবিবার ভোর পৌনে পাঁচটায় সিরাজগঞ্জের কাজীপুর এলাকার কাসিম উদ্দিনের ছেলে দলিলুর রহমান (৭৫) এবং শ্বাস কষ্ট জনিত কারনে শনিবার দিবাগত রাত ১টায় একই জেলার ভেন্নাবাড়ি থানার হরিনারায়নপুর গ্রামের মীর হোসেন আকন্দের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৬০) ইন্তেকাল করেন বলে ইজতেমা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

অপরদিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসা ইন্দোনেশিয়ার এক নাগরিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার নাম পুর্নম সোপান ওরফে সোফা হাজি (৫৬)। তার বাড়ি ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায়। বিশ্ব ইজতেমার পরিচালনা কমিটির মুরব্বি প্রকৌশলী মোঃ গিয়াস উদ্দিন জানান, সোফা হাজি শনিবার বিকেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাকে প্রথমে বিদেশি ক্যাম্পে ও পরে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিশ্ব ইজতেমায় শনিবার এশার নামাজের পর সোফা হাজির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার ইচ্ছা অনুযায়ী ইজতেমা ময়দানের কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হয়। এ নিয়ে গত তিন দিনে বিশ^ ইজতেমায় আগত ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকসহ ৮ জন মুসল্লি মারা গেলেন। ু

আজ আখেরী মোনাজাত : আজ রবিবার এবারের বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাত। ইহলোকের মঙ্গল, পরলোকের ক্ষমা, দেশের কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও বিশ্বশান্তি কামনা করতে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে রবিবার ভোর রাত থেকেই টঙ্গীর ইজতেমা অভিমুখে শুরু হয় মানুষের ঢল। টঙ্গীর পথে শনিবার মধ্যরাত থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মোটর গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মোনাজাতে অংশ নিতে চার দিক থেকে লাখ লাখ মুসুল্লী পায়ে হেঁটেই ইজতেমাস্থলে পৌঁছেন। সকাল ৮টার আগেই ইজতেমা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হলে মুসুল্লীরা মাঠের আশে-পাশের রাস্তা,অলি-গলিতে অবস্থান নেন। ইজতেমাস্থলে পোঁছুতে না পেরে কয়েক লাখ মানুষ কামার পাড়া সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মোনাজাতের জন্য পুরনো খবরের কাগজ, পাটি, সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিন সিট বিছিয়ে বসে পড়েন। এছাড়াও পাশ্ববর্তী বাসা-বাড়ি-কলকারখানা-অফিস-দোকানের ছাদে, যানবাহনের ছাদে ও তুরাগ নদীতে নৌকায় মুসুল্লীরা অবস্থান নেন। যে দিকেই চোখ যায় সেদিকেই দেখা যায় শুধু টুপি-পাঞ্জাবি পড়া মানুষ আর মানুষ। সবাই অপেক্ষায় আছেন কখন শুরু হবে সেই কাঙ্খিত আখেরি মোনাজাত।