Saju Tanore 09-01-2016 am bagane sorisha photo-1

দৈনিকবার্তা-তানোর, ০৯ জানুয়ারি ২০১৬: রাজশাহীর তানোরে আম-বাগানে সরিষা চাষে সাথী ফসলে কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটেছে। আম বাগানে ধান চাষের পাশাপাশি কৃষকরা বিভিন্ন ফসল ফলাচ্ছেন ফলে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। ফলে তানোরের কৃষকরা আম বাগানে ফলাচ্ছেন বিভিন্ন ফসল।গতকাল শনিবার বিকালে কামারগাঁ ইউপি’র কৃষ্ণপুর জমি’র মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষক আব্দুল জলিল তার জমিতে বিশাল আকারের গড়ে উঠেছে আম-বাগান। সেই আম-বাগানে এবার চাষ করেছেন সরিষা। তিনি জানান, এই এলাকার জমিগুলোর ফসল বিলের পানি বাড়া মাত্রই ডুবে যায়। সেই ক্ষতি পুশিয়ে নিতে এলাকার কৃষকরা বাড়তি আয়ের আশায় ধান চাষের পাশাপাশি আম বাগানে বিভিন্ন ফসল তৈরি করছেন।

তিনি আরও জানান, এসব আম-বাগানের জমিতে আমন ধানের আবাদ ছিল। ধান কাটার পর পরেই সরিষা রোপন করা হয়েছে। সরিষা উত্তোলনের পর পুনরায় বোরো চাষ করা হবে। একদিকে আমগাছ থেকে আসছে আম সেই আম বিক্রি করে কৃষক জলিল পাচ্ছেন বাড়তি আয়। অন্যদিকে ধান সহ যাবতীয় রবিশস্য চাষ হচ্ছে আম-বাগানে। জলিলের সরিষা হয়েছে বাম্পার। ফলনও হবে চাহিদা মতো বলে জানান তিনি। তিনি এবার আড়াই বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। তার জমির সাথেই সংযুক্ত কৃষ্ণপুর গ্রামের মোজাম আলীর জমি। তিনি এবারে ৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। ওই গ্রামের কৃষক মোবারক জানান, বাতাসপুর শ্মশানঘাট, শ্রীখন্ডা, কৃষ্ণপুর সহ এসব এলাকার জমি ধান চাষে মারাত্মক ভরাশয়ী হয়েছেন কৃষকরা। তিনি আরও জানান, এবারে দেড় বিঘা জমিতে বিআর-৭, বিআর-১৪ জাতের সরিষা রোপন করেছেন।

বিঘা প্রতি ২ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার গাছ হয়েছে বাম্পার। প্রতিটি গাছে ব্যাপক ভাবে শোভা পাচ্ছে সরিষার হলুদ ফুল। এসব জমিতে আমন ধান রোপনের পর পানিতে ডুবে যায় এসব জমিগুলো। সেই ক্ষতি পুসিয়ে নিতে বিভিন্ন রবিশস্য চাষে কমর বেধে নেমে পড়েছেন ওই অঞ্চলের কৃষকরা।একের পর এক আবাদে ঝুঁকে পড়ছেন কৃষকরা। এ সরিষা তুলে নেমে পড়বেন কঠিন শীত অপেক্ষা করে বোরো চাষে। সেজন্যেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কৃষি অফিস জানান, উপজেলা জুড়ে আম-বাগান রয়েছে ৩শ’৬০ হেক্টর জমিতে। মিশ্র আম-বাগানের যদিও সঠিক হিসাব নেই কৃষি অফিসের। কিন্তু’ অনুমান করে জানায়, ৭০ থেকে ৮০ হেক্টর জমিতে মিশ্র আম-বাগান থাকতে পারে বলে জানান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, যাদের জমির পরিমাণ সামান্য তাদের কৃষি বিভাগ থেকে মিশ্র ফসলের জন্যে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ফলে এখন আম-বাগানে সরিষা, বেগুন সহ যাবতীয় চাষাবাদ হচ্ছে।