দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ০১ ডিসেম্বর ২০১৫: প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এখন পর্যন্ত পৌরসভা নির্বাচনের জন্য মেয়র প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। তবে ২০-দলীয় জোটের শরিকদের চাহিদার কারণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বিলম্ব হচ্ছে। দুই দলের নেতারাই বলছেন, অল্প কিছু কাজ বাকি আছে। মঙ্গলবার রাতের মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৬টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে। আর এই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৩ ডিসেম্বর।
আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যয়নপত্র লাগবে। অন্যদিকে, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শাহজাহানের প্রত্যয়নপত্র লাগবে ওই দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য। পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অগ্নিপরীক্ষায় নামছে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন এবং প্রতীকে মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন দুই দলের মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পরিমাপক হিসেবে কাজ করবে। মূলত এ কারণেই প্রধান দুটি দল এ নির্বাচনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। অনুকূল ফল ঘরে তুলতে ভোটযুদ্ধের কর্মকৌশল সাজাচ্ছে উভয় দলের হাইকমান্ড। বসে নেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শরিকরাও। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ বাম প্রগতিশীল ঘরানার দলগুলোও নেমেছে নির্বাচনী যুদ্ধে।
অবাধে ভোট দেয়ার পরিবেশ তৈরির জন্য নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা সাত দফা সুপারিশ করেন।নির্বাচন বিশেষজ্ঞসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে বড় দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আদলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পৌরসভা নির্বাচন দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির জন্যই অগ্নিপরীক্ষা। এই নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে বিএনপির জনপ্রিয়তা যাচাই হবে। একইভাবে আওয়ামী লীগকে জনগণ চায় কিনা তাও প্রমাণ হবে ভোটের হিসাবেই। সেই ভোট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে কিনা তা নিয়েও শংকা আছে বড় একটি অংশের মধ্যে। কেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে কোনো দলেরই প্রকৃত জনপ্রিয়তা বোঝা যাবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ। এজন্যই তারা বলছেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা না করা নিয়ে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকেও। জাতীয় পার্টিসহ দুই জোটের শরিক ছোট এবং মাঝারি ধরনের দলগুলোও পিছিয়ে নেই।
জোটের বাইরে থাকা বাম প্রগতিশীল ঘরানার দলগুলোর জনপ্রিয়তাও যাচাই হবে এই সুযোগে। নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত কেউ খুব সহজেই পার পাবে না বলে তারা মনে করেন।প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, এটি বড় নির্বাচন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সভা করেই সে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, সবার জন্য নির্দেশ হচ্ছে আইনসম্মতভাবেই কাজ করতে হবে। পৌর নির্বাচনে আগের চেয়ে আরও দ্রুত অ্যাকশন নেব। ব্যালট চুরি, ছিনতাইয়ের কোনো রকম তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নেয়া হবে।রাজনৈতিক দলগুলো এ নির্বাচনকে বড় করে দেখছে। যে কারণে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার সভায় নির্বাচন এবং প্রার্থী মনোনয়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
শেষ পর্যন্ত যাতে এ আমেজ অব্যাহত থাকে এজন্য অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, পৌরসভা নির্বাচনের জন্য গঠিত মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীদের একটি তালিকা করেছে। আজ রাতের মধ্যে সব প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। সম্ভব হলে রাতেই পার্থীদের দলীয় মনোনয়ন সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্রগুলো তাদের কাছে পাঠানো শুরু হবে। বুধবারের মধ্যেই সব প্রার্থীর কাছে এটা পৌঁছানো হবে।দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এককভাবে অংশ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যান্য শরিক দলগুলো পৃথকভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে।আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেন, তাঁরা তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। আজ রাতে কিছু কাজ শেষ করে তা প্রকাশ করা হবে। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, প্রার্থী মনোনয়ন সংক্রান্ত কাজ গুছিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মনোনয়ন বোর্ডের একটি সভা গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। ওই বৈঠকের পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। তাঁর আশা, রাতের মধ্যেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক করেও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এর কারণ নেতাদের স্বজনপ্রীতি। তারা দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে স্ত্রী, শ্যালক, নিকটাত্মীয়দের নাম সুপারিশ করেছেন। ফলে ২৩৬টি পৌরসভাতেই মেয়র পদে দলের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা যায়নি। এ নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশও করেন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সোমবার সন্ধা ৬টার দিকে গণভবনে আওয়ামী লীগের ১৮ সদস্যের স্থানীয় সরকার/ পৌরসভা নির্বাচন মনোনয়ন সিলেকশান বোর্ডের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। যা রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে। উপস্থিত এক নেতা জানান, এমপি- মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপের কারণেই অধিকাংশ পৌরসভাতে প্রার্থী তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও উপস্থিত নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।সূত্র জানায়, মঙ্গলবার আবার বৈঠকে বসে সব পৌরসভাতেই মেয়র পদে দলের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে তা ঘোষণা করা হতে পারে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর দল মনোনীত চূড়ান্ত ২৩৬ জন মেয়র প্রার্থীকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত দলীয় প্রতীক বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে,বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি দলীয়দের মেয়র পদে মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। ১০/১২টি পৌরসভা ছাড়া অন্যান্য পৌরসভায় মেয়রপ্রার্থী সোমবার চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে শরিক দলগুলো নিয়ে। তাদের কতটা পৌরসভায় মনোনয়ন দেওয়া হবে সে ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ জন্য মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র পাঠানোর কথা থাকলেও সেটা হয়নি। অবশ্য ওই সূত্রটি জানিয়েছে, ইতিমধ্যে চূড়ান্ত অনেক মেয়রপ্রার্থীকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য প্রত্যয়নপত্র ছাড়া অন্যান্য প্রস্তুতি শেষ করে রেখেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার শেষ দিনে তাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।বিএনপি সূত্র জানায়, জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন না থাকায় নির্বাচন করতে পারছে না। তাই তাদের স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে হবে। জামায়াত যেসব স্থানে নির্বাচন করবে সেখানে দলের অবস্থান কি হবে, সেটাও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কার্যালয়ে আসার পর আজ রাতেই মনোনয়ন সংক্রান্ত যেসব কাজ বাকি আছে তা শেষ হবে বলে সূত্রটি উল্লেখ করে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, শরিকেরা তাদের চাহিদার কথা দলীয় চেয়ারপারসনকে জানিয়েছেন।তিনিই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলের আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়ন (প্রত্যয়নপত্র) বিতরণ শুরু করেছে বিএনপি।মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ মনোনয়ন বিতরণ শুরু হয়।
খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি টিম মনোনয়ন বিতরণের কাজ করেছে।তবে বিষয়টি অতি গোপনীয় হওয়ায় গুলশান কার্যালয়ে পৌর নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থী ছাড়া দলীয় নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কেবল নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিএনপির প্রতিনিধিরা গুলশান কার্যালয়ে কাজ করছেন। পৌর নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, কাজটি সেনসেটিভ হওয়ায় গুলশান কার্যালয়ে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কেবল আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে যারা স্বশরীরে উপস্থিত হচ্ছেন, তাদের মধ্যে মনোনয়ন (প্রত্যয়নপত্র) বিতরণ করা হচ্ছে।জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য ২৩৬টি প্রত্যয়নপত্র প্রস্তুতের কাজ গুলশান কার্যালয়ে দ্রুত গতিতে চলছে। আগামী ২ দিনের মধ্যে দলের মনোনীত প্রার্থীদের হাতে এগুলো তুলে দেওয়া হবে। এই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরকারি মনোনয়ন সংগ্রহ করে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, গুলশান অফিসে প্রত্যয়নপত্র তৈরির কাজ চলছে। এখান থেকেই দলের মনোনীত প্রার্থীরা প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।
এদিকে, আসন্ন পৌর নির্বাচনে আদালতের রায়ে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নেই। তবুও ২৩৬টি পৌরসভার মধ্যে ১০০টিতে প্রার্থী বাছাই করেছে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে শীর্ষ নেতাদের বিচারে বিপর্যস্থ এ দলটি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য কৌশলে স্বতন্ত্র প্রার্থীও দিচ্ছে দলটি। শুধু তাই নয় যেসব পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থী থাকবে না, সেখানে জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের নির্ধারিত ১০০ পৌরসভার মধ্যে তারা ৩০টি পৌরসভায় মেয়র পদে জয়েরও সম্ভাবনা দেখছে তারা। তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও মেয়র পদ ভাগাভাগির বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি। ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনে ৫০ পৌরসভায় মেয়র পদে জোটের সমর্থন চেয়েছিল জামায়াত। শেষ পর্যন্ত ২০টিতে ছাড় দেয় জোটের প্রধান শরীক বিএনপি।
এবারও জামায়াতের দাবি ৫০ পৌরসভা। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন পত্রও সংগ্রহ করেছে। তারা কৌশলে নির্বাচনী কার্যক্রমও শুরু করে দিয়েছে।দলীয়ভাবে এবারই প্রথম স্থানীয় নির্বাচন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত দলগুলোর নেতাকর্মীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ আছে। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা দেয়। এর বিরুদ্ধে জামায়াত আপিল করলেও, পৌর নির্বাচনের আগে এ ইস্যুর চূড়ান্ত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ওই সূত্র আরো জানায়,নির্বাচনে অংশ নেয়ার মূল উদ্দেশ্য নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা। প্রায় সব পর্যায়ের নেতা কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে আছেন। নির্বাচনকে উপলক্ষ করে মাঠ পর্যায়ে কিছু কাজ করার সুযোগ পাওয়া যাবে।জামায়াতের সূত্রগুলো বলছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা শীর্ষ নেতৃত্বকে চাপ দিচ্ছে। কেন্দ্রের কাছে লিখিত চিঠি দিয়ে তৃণমূল থেকে দাবি করা হয়েছে,স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তারা জয়ী হবেন। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বলছেন, বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও তারা নির্বাচনের পক্ষে। কারণ স্থানীয় জনগণ তাদের পক্ষে রয়েছে।