coxs-avi01

দৈনিকবার্তা-কক্সবাজার, ১২ আগস্ট ২০১৫: মিয়ানমার থেকে চতুর্থ দফায় ফেরত আসা আরো ১৪২ জন বাড়ীর পথে রওনা দিয়েছে। আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাদের। এ ১৪২ জনকে বাড়ী পৌছে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও)।মিয়ানমার থেকে চতুর্থ দফায় ফেরত আনা ১৫৯ জনের মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১৭ জনকে আদালতের নির্দেশনামতে মঙ্গলবার রাতে তাদের বাড়ীর উদ্ধেশ্যে রওনা দেয় রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্সবাজার ইউনিটের একটি টিম। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ জানান, মিয়ানমার থেকে ফেরত আনা ১৫৯ বাংলাদেশীকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে দালালদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত ১২ জেলার ১২৬ জন দালালের নাম ও ঠিকানা পাওয়া গেছে। এদের বিরুদ্ধে স্বস্ব জেলায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনামতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১৭ জনকে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির জিম্মায় মঙ্গলবার রাতে বাড়ী পৌছে দেয়া হয়েছে। বাকী ১৪২ জনকে বুধবার নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আইএমও তাদের বাড়ী পৌছে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) এর ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার আসিফ মুনীর জানান, আদালতের নির্দেশনা মতে মঙ্গলবার অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১৭ জনকে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্সবাজার ইউনিটের জিম্মায় বাড়ী পৌছে দেয়া হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর ১২ টায় আরো ১৪২ জনকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আইএমও এদের বাড়ি পৌছে দিতে সকল ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। আজ রাতের মধ্যে সবাই নিজ বাড়ীতে পৌছে যাবে।

আইএমওর এ কর্মকর্তা জানান, সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে মিয়ানমারে আরো সাড়ে ৪ শ’ বাংলাদেশী রয়েছে। এদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।সাগরে ভাসমান অবস্থায় মিয়ানমারের জলসীমা থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশী ১৫৯ নাগরিককে গত সোমবার দুপুর ১ টায় বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। জেলা পুলিশ তাদের নিরাপত্তার সহিত ৬ টি বাসে করে বেলা ৩ টা নাগাদ কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-১৭ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় মিয়ানমার যান। প্রতিনিধি দলে পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এম.এম আনিসুর রহমান। অপর দিকে মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মিয়ানমার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট পরিচালক ইউ স নাইং। বৈঠক শেষে দুপুর ১ টায় ১৫৯ জনকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন প্রতিনিধি দলটি।উল্লেখ্য, গত ২১ মে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ২০৮ জন এবং ২৯ মে আরও ৭২৭ জন অভিবাসী প্রত্যাশীদের উদ্ধার করে দেশটির নৌবাহিনী। যার মধ্যে ৮ ও ১৯ জুন এবং ২২ জুলাই তিন দফায় দেশে ফেরত আনা হয় ৩৪৭ জনকে। ১০ আগষ্ট চতুর্থ দফায় ১৫৯ জনকে ফেরত আনা হল।