দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ১১ জুন: মানবপাচার বন্ধে সরকার শিগগিরই বিধিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে পাবলিক প্রসিকিউটরদের সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।এ বিষয়ে আদালত গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, বিচারক সংকটের কারণে এখনই বিচারক নিয়োগ করা যাচ্ছে না। আদালত স্থাপনে অর্থমন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে অর্থায়নে রাজি হয়েছে।একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক আসামিদের ধরতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও আইনমন্ত্রণালয় থেকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতে উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।গত মঙ্গলবার যুদ্ধাপরাধী হাসান আলীর রায় প্রদানকালে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ওই প্রশ্ন তোলেন ট্রাইব্যুনাল।এরই প্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারের সম্মুখীন হতে আসামিদের অনেক ভয়-ভীতি রয়েছে। কিন্তু যেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার তা হলো, যেসব আসামিকে আদালত আসামি হিসেবে তলব করবেন, তাদেরকে ধৃত করে দেওয়া যাদের দায়িত্ব, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কি না। বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালের এই বক্তব্য আমি অবশ্যই হোম মিনিস্ট্রির কাছে তুলে ধরবো। একটি সমন্বয়ের মাধ্যমে যাতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা যায় সে ব্যবস্থা করার জন্য আমি সচেষ্ট থাকবো।গত ১৩ মে বুধবার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য একটি তদারকি সেল বা কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এরপর ২১ মে পাঁচ সদস্যের একটি তদারকি সেল গঠন করা হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।এর আগে কর্মশালায় বিভিন্ন জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক পাবলিক প্রসিকিউটর অংশ নেন আইনমন্ত্রী।