দৈনিকবার্তা_DoinikBarta_1418465046

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৯ এপ্রিল: বিএনপিচেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলার স্থগিতাদেশ আরও ৬ মাস বাড়িয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।গত রোববার এ মামলা বাতিলে খালেদা জিয়ার করা একটি আবেদন হাইকোর্টে রায় দেয়ার কথা ছিল। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার প্রধান বিচারপতি ওই আবেদনসহ বড়পুকুরিয়া, নাইকো ও গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার ৪টি আবেদন শোনার জন্য বেঞ্চ পরিবর্তন করে দিলে বৃহস্পতিবার তা আবার আদালতে ওঠে।

খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী মাহবুবউদ্দিন খোকন শুনানিতে স্থগিতাদেশ বাড়ানোর আবেদন করেন। পরে দুই বিচারপতি স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে দেন।এর আগে বিচারপতি মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের বেঞ্চে মামলাগুলোর শুনানি চলছিল।বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাকার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্র“য়ারি খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।এ মামলা বাতিলে খালেদার করা একটি আবেদন এর আগে হাই কোর্টে রায়ের পর্যায়ে এলেও তার আইনজীবীরা অনাস্থা জানিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে বেঞ্চ পরিবর্তনের আবেদন করেন। ওই আবেদনে প্রধান বিচারপতি বড়পুকুরিয়া, নাইকো ও গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার চারটি আবেদন শোনার জন্য বেঞ্চ বদলে দিলে বৃহস্পতিবার তা আদালতে ওঠে।

খালেদার পক্ষে তার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিনখোকন শুনানিতে স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে দুই বিচারকের বেঞ্চ তা মঞ্জুর করে।আদেশের পর খোকন সাংবাদিকদের বলেন, মামলার অবস্থা আগের মতোই রয়েছে। আইন অনুসরণ করে মামলাটি করা হয়নি। স্থাগিতাদেশের মেয়াদ আদালত ছয় মাসের জন্য বাড়িয়েছেন। তবে রুল শুনানির জন্য আছে।

বিগত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্র“য়ারি শাহবাগ থানায় এ মামলা করে দুদক। সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ১০ মন্ত্রীসহ ১৬ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়।ওই বছর ৫ অক্টোবর ১৬ জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।এতে বলা হয়, চীনা প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়াম অফ চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করার মধ্য দিয়ে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন।

২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর খালেদার বিরুদ্ধে এ মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করে হাই কোর্ট। মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও দেওয়া হয়। হাই কোর্টের ওই আদেশ আপিলেও বহাল থাকায় আটকে যায় খনি দুর্নীতি মামলা।

সাত বছর পর চলতি বছরের শুরুতে দুদক মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নিলে হাই কোর্টের দেওয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়।গত ৩ ও ৫ মার্চ বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের বেঞ্চে চূড়ান্ত শুনানির পর আদালত রায়ের জন্য ১০ মার্চ দিন রাখে। পরে তা পিছিয়ে ৫ এপ্রিল (রোববার) নতুন তারিখ রাখা হয়।এরইমধ্যে খালেদার আইনজীবীরা বেঞ্চ পরিবর্তনের জন্য হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন। এরপর প্রধান বিচারপতি বুধবার রুল শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চ ঠিক করে দেন।