Old_High_Court_Building_Dhaka_Bangladesh

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ২২ মার্চ: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকা এবং রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় জামায়াত আমীরসহ পাঁচ নেতা এবং আইনজীবী তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা প্রশ্নে শুনানির পরবর্তী তারিখ আগামী ৫ এপ্রিল।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রোববার এ আদেশ দেয়। জামায়াত-শিবিরের ৫ নেতা ও আইনজীবী তাজুলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা প্রশ্নে গত ১২জানুয়ারি রুল জারি করা হয়।ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও ভারপ্রপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ড. শফিকুর রহমান, ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল জব্বার ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে এ রুল জারি করে ট্রাইব্যুনাল। রায় নিয়ে মন্তব্য করায় কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়া হবে না- রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।

জামায়াত-শিবিরের ৫ নেতার পক্ষে শুনানির প্রস্তুতির জন্য আজ সময় আবেদন করেন আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান। এর আগে ট্রাইব্যুনালে তাজুল ইসলামের পক্ষে ব্যারিস্টার বদরুদোজ্জা বাদল নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে লিখিত জবাব দাখিল করেন।প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে গত ১ জানুয়ারি ওই ছয়জনের বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগটি দাখিল করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে গতবছর ৩০ ডিসেম্বর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদন্ড রায় দেয়ার পর এডভোকেট তাজুল ইসলাম বিরূপ মন্তব্য করেন।

আইনজীবী তাজুল ইসলাম রায়ের পর তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন যে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়েছেন, সেটা গ্রহণ না করে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা হলেই সুবিচার হতো। এসব সাক্ষ্য-প্রমাণে মৃত্যুদন্ড হওয়া দূরের কথা, এসব অভিযোগ দাখিলের জন্য প্রসিকিউশনের জরিমানা হওয়ার দরকার ছিল। আজহারের বিরুদ্ধে রায়কে অষ্টম আশ্চর্য বলেও মন্তব্য করেন আইনজীবী তাজুল।এছাড়াও ওই রায়ের পর গত ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি হরতাল করে জামায়াত। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতি দিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য করেন জামায়াত-শিবিরের নেতারা। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করা হয়।