দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি: বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বন্দুকের নল নির্ভর সরকার এখন পতনের শেষ সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছে। জনগণ এখন সরকার পতনের ক্ষণ গণনা শুরু করেছে। পুলিশ বাহিনীকে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্যে পরিণত করে সরকার নিজেকে আপাত নিরাপদ মনে করলেও যেকোনো মুহূর্তে বন্দুকের নল ঘুরে যেতে পারে। রাষ্ট্রশক্তির চূড়ান্ত নৈরাজ্যের বিপরীতে জাগ্রত গণশক্তির বিজয় আসন্ন।বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের পক্ষে বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সালাহ উদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেন।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রী বুধবার সংসদে অতিশয় দম্ভ সহকারে বলেছেন- জনগণ বিএনপির সাথে নেই এবং ২০ দলের ৭ দফা ব্যক্তিস্বার্থের দাবি। জনগণ যদি আওয়ামী লীগের সাথে থাকে তাহলে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে ভয় পান কেন? জনগণকে ভয় পান কেন? নির্বাচন দিন, প্রমাণ হয়ে যাবে জনগণ কাদের সাথে আছে। ৭ দফা দাবির প্রত্যেকটি গণতন্ত্রের জন্য, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিকিকরণের জন্য। নির্বাচন কমিশনসহ সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতার জন্য, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের জন্য এবং প্রিয় মাতৃভুমিকে সমৃদ্ধ ও উন্নত গণতন্ত্রের দেশে পরিণত করার গণদাবীর প্রতিফলন মাত্র।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন না বলে প্রায়শই ঘোষণা দিয়ে থাকেন। তাহলে এতো গণহত্যা চালিয়ে লুণ্ঠনকৃত মসনদ রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কেন? জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে, দেশের সকল শ্রেণী- পেশার মানুষ ও নাগরিক সমাজকে অবজ্ঞা করে এবং সারা বিশ্বকে অস্বীকার করে ফ্যাসিবাদী একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না। এদেশের জনগণ তা কখনোই হতে দেবে না।
বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আবারো আহ্বান জানাচ্ছি- গণআন্দোলনে নির্মম পতনের হাত থেকে যদি বাঁচতে চান, জনরোষের কবল থেকে যদি রক্ষা পেতে চান, তাহলে অবৈধ ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার প্রবল উন্মাদনা পরিত্যাগ করে দ্রুত পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা দিন। প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষমূলক রাজনীতি পরিত্যাগ করে জনদাবির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন।
তিনি বলেন, অনেক বিলম্বে হলেও গণমাধ্যমে সরকারি নগ্ন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ প্রকাশকে আমরা স্বাগত জানাই। সংবাদপত্রসহ সকল গণমাধ্যমকে আমরা সরকারি অবৈধ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে জাতীয় জীবনের এই ক্রান্তিলগ্নে গণতন্ত্র মুক্তির লড়াইয়ে শরীক হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নিজে এবং তাঁর নেতৃত্বে গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ জনতা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছেন। অতএব গ্রেফতার-নির্যাতন, মামলা-হামলার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে চলমান গণআন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না বরং আন্দোলনের গতি তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।
তিনি বলেন, চলমান অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পালন করায় আমি বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোট নেতা বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান তিনি ।সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে চলমান অবরোধ-হরতালে যেসমস্ত নেতা-কর্মী আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। নিহতদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা ও সহানুভুতি। এছাড়া, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশে গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নি:শর্ত মুক্তি দাবী করছি।
অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবীতে, দেশব্যাপী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিচারবর্হির্ভুত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে, সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের কর্তৃক বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদেরকে গুম, খুন, অপহরণ, পঙ্গু ও আহত করার প্রতিবাদে, দেশব্যাপী বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীসহ নিরীহ জনগণকে গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পূণ:রুদ্ধারের দাবিতে, বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ ও কুক্ষিগতকরণের প্রতিবাদে, সাংবাদিক নির্যাতন ও সংবাদ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদে, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে, অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে চলমান শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশবাসীর আশা-সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং গণদাবী মেনে নিয়ে দ্রুত পদত্যাগ করে দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে সরকারসৃষ্ট ভয়াবহ সংকট থেকে জাতিকে রক্ষা করবে। আর ইতোমধ্যে সরকার তা করতে অস্বীকৃতি জানালে অর্থাৎ গণদাবী মেনে না নিতে অনড় অবস্থানে থাকলে আমরা আবারও আগামী ১লা মার্চ ২০১৫ রোজ রোববার থেকে দেশব্যাপী হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। গণদাবীকে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা নিরঙ্কুশ রাখতে সকল স্বৈরাচারই ব্যর্থ হয়েছে এবং এটাই ইতিহাস, জনতার দূর্বার আন্দোলনে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অবৈধ ক্ষমতার মসনদ ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাবে। জনতার বিজয় অতি আসন্ন।